ইমরান খান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ-
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগর বাজারে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৩৫০ জন কার্ডধারী সুবিধাভোগীর মধ্যে সুলভ মূল্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কার্ডধারী নির্ধারিত মূল্যে প্রতি কেজি ১৫ টাকায় চাল সংগ্রহ করেন। চাল বিতরণ কার্যক্রমে তদারকি করেন ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
ডিলার দীপঙ্কর সাহার বক্তব্য
স্থানীয় ডিলার দীপঙ্কর সাহা বলেন,
“সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কার্ডধারীদের কাছে প্রতি কেজি ১৫ টাকায় চাল বিক্রি করেছি। কোনো কার্ডধারীকে কম চাল দেওয়া হয়নি এবং কেউ অতিরিক্ত টাকা দেয়নি। সঠিকভাবে চাল বিতরণ করাই আমার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ চাল সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সুযোগ নেই। আমি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি।”
ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনের মতামত
ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন বলেন,
“সরকারের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আশীর্বাদ। দীপঙ্কর সাহা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সততার সঙ্গে চাল বিতরণ করেছেন। কেউ কম চাল পেয়েছেন—এমন অভিযোগ পাইনি।”
সুবিধাভোগীদের মুখে স্বস্তির হাসি:
জয়নগর গ্রামের রোকেয়া বেগম বলেন,
“বাজারে চালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এখানে ১৫ টাকায় চাল পেয়ে আমরা অনেক খুশি। ডিলার সাহেব ভালো ব্যবহার করেন, চালও ঠিকঠাক দিচ্ছেন।”
আব্দুল করিম মোল্লা বলেন,
“আগে নানা জায়গায় অভিযোগ শুনতাম, কিন্তু এখানে কোনো অভিযোগের সুযোগ নেই। সবাই ঠিক মতো চাল পাচ্ছে।”
হালিমা খাতুন বলেন,
“লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে চাল পেয়েছি। কেউ ঝামেলা করেনি, কমও দেয়নি। সরকারের এই কর্মসূচি নিয়মিত হলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”
সুশৃঙ্খল পরিবেশে বিতরণ সম্পন্ন
চাল বিতরণ চলাকালে জয়নগর বাজার এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সুবিধাভোগীরা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহ করেন। পুরো বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলতা বজায় ছিল।
সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে ডিলার দীপঙ্কর সাহা ও ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন দেখিয়ে দিয়েছেন—ইচ্ছা থাকলে সরকারি সেবায়ও শতভাগ স্বচ্ছতা সম্ভব।