মো: আল আমিন, দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধি।
চারদিকে যখন ঈদের আনন্দ আর নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার উৎসব, ঠিক তখনই দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে দেশের স্বার্থে নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা।
পরিবারের সঙ্গে ঈদের সেমাই-পায়েসের আনন্দ নয়, বরং হাতে রাইফেল আর বুকে দেশপ্রেম নিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে পাহারা দিচ্ছেন তারা। এমনই দৃশ্য দেখা গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া সীমান্ত এলাকায়।
জানা গেছে, বাবুছড়া এলাকায় ৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে ১০টি বিওপির মাধ্যমে প্রায় ৫৮ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় দায়িত্ব পালন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে তা সামাল দিচ্ছেন।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটকে সামনে রেখে পাচার রোধে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। বাবুছড়া ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও চৌকি। এসব স্থানে দিন-রাত টহল ও নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে সক্রিয় রয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই যাতে জ্বালানি তেল পাচার না হতে পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক চলাচল ও যানবাহন তল্লাশির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
রমজান মাসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পেলেও দায়িত্ব পালনে ক্লান্তি নেই সদস্যদের। সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার এবং ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সদস্য এবার ঈদে বাড়ি যেতে না পারলেও দেশের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বাবুছড়া ৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ইসতিয়াক আহাম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, “রমজান মাসে সদস্যরা ইফতার সঙ্গে নিয়েই দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের ঈদে অনেকেই বাড়িতে যেতে পারবেন না—এটাই আমাদের পেশাদারিত্বের দৃষ্টান্ত। তারপরও আমরা হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে যাবো।”