মো: লিটন রাজ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ-
জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমানকে ঘিরে। অভিযোগ উঠেছে—দলীয় দায়িত্বে থেকেও তিনি এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি)–এর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে এলডিপির কয়েকটি সভা ও রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে তার পরিবারেও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য স্পষ্ট। আনিছুর রহমানের পিতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, আর চাচা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্বে আছেন। অর্থাৎ একই পরিবারের সদস্যরা তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন,
“একজন সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা যদি অন্য দলে সক্রিয় থাকেন, তা দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
রশিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির বেশ কয়েকজন কর্মী ইতোমধ্যে উপজেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তাদের দাবি, আনিছুর রহমানের এলডিপি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। যদি তিনি অন্য দলে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে বিএনপির সাংগঠনিক নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে আনিছুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমি বিএনপির রাজনীতিতেই বিশ্বাসী। কেউ আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এলডিপির সঙ্গে আমার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই।”
স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন, একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক মত থাকাটা বাংলাদেশের গ্রামীণ রাজনীতিতে অস্বাভাবিক নয়। তবে একজন দায়িত্বশীল বিএনপি নেতার এলডিপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা সংগঠনের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে রশিদপুর ইউনিয়নজুড়ে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। উপজেলা পর্যায়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনিছুর রহমানের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।
ব্যক্তিগত পরিচিতি হিসেবে বহুবিবাহ করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে তার ফুপু হয়। মামলার তদবির নিয়মিত করে বানিজ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি চাউল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে সম্ভাব্য তালিকায় তার নাম রয়েছে। যার জামালপুর সদর থানায় মামলা নং ৪৯ যা ১৯-০৯-২০২৫ ইং তারিখে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। জি আর মামলা নং ৭৪৬ (২) ২৫ এর আসামি ৩০ জন তালিকা ভুক্ত এবং ৫০/৬০ জন গং দেওয়া আছে। পুলিশকে সরকারি কাজে বাঁধা, আহত, ছিনতাই করার অভিযোগে ধারা ১৪৩/৩৪১।৩২৩/৩৩২/৩৫৩/৩০৭/ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার প্রতিটি আসামি তার রক্তের ভাই,চাচা,চাচি,কাকা,কাকি ইত্যাদি। এরকম সন্ত্রাসী কর্মী থেকে সকলেই পরিত্রাণ বলে অভিযোগ রয়েছে।