মো: লিটন রাজ, জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ-
১৯ অক্টোবর ২০২৫ইং
চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম শিক্ষা কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি একটি সংবেদনশীল ও উদ্বেগপ্রকাশী চিঠির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট ও ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি জানান—১৯৯২ সালে পৈত্রিক সম্পত্তি দানের মাধ্যমে বহুমুখি শিক্ষাসেবা চালু করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন; এরপর থেকে কমপ্লেক্সটি মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা, জেনারেল শিক্ষা ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একাধিক কোর্স চালু করে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বিশাল প্রভাবশালী কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।
প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও অর্জন
প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে রয়েছে—
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং জেনারেল শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত কোর্সসমূহ,
চারবছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও পলিটেকনিকের বিভিন্ন শাখা, বিএম কোর্সের একাধিক বিভাগ, দুইটি ভোকেশনাল শাখা, এবং দাখিল-আলিমসহ জেনারেল শাখা;
মোট মিলিয়ে প্রায় ২০০ জনেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এখানে কর্মসংস্থান লাভ করেছেন;
প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষার সনদ অর্জন করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন;
সুষ্ঠু পড়াশোনা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরীক্ষার কেন্দ্র অনুমোদনসহ অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত রয়েছে; ফলে অন্যান্য কোর্সগুলোর ফলাফলও সন্তোষজনক (আলহামদুলিল্লাহ)।
সমস্যার মূল কথা
অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেনারেল কলেজটি নন-এমপিও হওয়ায় ভর্তি সংকট ও আর্থিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-পাওনা পাচ্ছেন না। ফলে ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে, ভাল ছাত্র-ছাত্রী কমে আসছে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও রেজাল্টে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তারপরও, কিছু زمত্র (সামাজিক ও রাজনৈতিক) স্বার্থান্ধ ব্যক্তি ও গুচ্ছবদ্ধ গ্রুপ কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটির ভ্রম্যাদিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে কুপ্রচেষ্টা, বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য ও অনধিকার চর্চা চলমান — যা শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সমাজে ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন যে এই সব অপপ্রচার ও অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিষ্ঠানটির শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করছে এবং প্রতিষ্ঠানের উপর অযথা স্থায়ী কলঙ্কস্হাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অধ্যক্ষের আহ্বান ও দাবি
অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বলেন—
“এই প্রতিষ্ঠান আমার অনশন, দেহপরিশ্রম ও সচ্ছল পরিবারিক ত্যাগে প্রতিষ্ঠিত। আমরা এখানে বহু প্রতিভাবান ছেলেমেয়েকে পাঠিয়েছি—আজ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্মানজনক অবস্থানে আছেন। যারা অনধিকারভাবে, স্বার্থান্বেষণে ও হীন মানসিকতায় এখানে প্রভাব বিস্তার বা অপমর্যাদা ছড়াচ্ছে—তারা যেন আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
তাঁর বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল—
অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কথিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
নন-এমপিও জেনারেল কলেজকে এমপিওভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান;
ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পাঠদানের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার;
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
প্রতিষ্ঠানটি বহু বছর ধরে এলাকার শিক্ষাসেবা প্রদানে ভূমিকা রাখায় এলাকাবাসী, সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি রক্ষা করা উচিত এবং অনুপ্রবেশকারী কুপ্রবৃত্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের হাত থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণকে নিরাপদ রাখা জরুরি। অনেকেই দাবি করছেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যাবে।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশাসনের দৃষ্টিপাত কামনা
অধ্যক্ষের আবেদন সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আনার উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অধ্যক্ষ স্পষ্টভাবে দ্রুত তদন্ত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি একটি বহুমুখী শিক্ষাকেন্দ্র — যেখানে মাদ্রাসা, কারিগরি ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয় ঘটেছে; তাই এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে ছাত্র-শিক্ষক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এটি এলাকাবাসীর জন্যও একটি বড় ক্ষতি হবে। সুতরাং, আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই — ত্বরিত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ করুন, যাতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম পুনরুদ্ধার ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।